Home

bdnews24. slilota

[বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে একজন নারী যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। গতবছরের বিজয় দিবসের গিনিসবুকে নাম ওঠানোর যে আয়োজন হয়েছিল, সেখানেও নিরাপত্তাবেষ্টনীর ভেতরে নারীর যৌন হয়রানির ঘটনার কথা শুনেছি। গতকালের আক্রমনের খবর প্রথম ফেসবুকে একজন বাম ছাত্রদলের নেতার পোস্টের মাধ্যমে নজরে আসলো। ঘটনার ভয়াবহতায় ক্রুদ্ধ হই, কিন্তু পোস্টটিতে সংঘবদ্ধ যৌন নিপীড়নের ঘটনাকে শ্লীলতাহানি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেটা দেখে বিচলিতও হলাম। মুহূর্তের মধ্যেই নিউজফিডে bdnews24.com-এর খবর ভেসে উঠল, “বর্ষবরণ উৎসবে শ্লীলতাহানি।” এই ঘটনায় অশ্লিল, অশিষ্ট, অভদ্র আচরণ যদি কেউ করে থাকে, সেতো আক্রমণকারী পুরুষ। সংবাদ পরিবেশনের এই পিতৃতান্ত্রিক প্রবণতা নতুন নয়। ২৯শে মে, ২০১২-তে ঢাকা নিম্ন  আদালত প্রাঙ্গনে একজন নারী পুলিশ কর্তৃক যৌন নিপীড়নের শিকার হন। পত্রিকার শিরোনামগুলো ছিল একই। রাগ সামলাতে না পেরে, তৎক্ষনাত “বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর শ্লীলতাহানি ঘটেছে!!” শিরোনামে একটি লেখা লিখেছিলাম। লেখাটি মূলত: আদালত প্রাঙ্গনে সংঘটিত এই যৌন নিপীড়ন নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের বিশ্লেষণ। গতকালকের ঘটনার প্রেক্ষিতে লেখাটির প্রাসঙ্গিকতা বিবেচনা করে আবার পোস্ট করার তাগিদ বোধ করলাম। যৌন নিপীড়কের শাস্তি হোক, যৌন নিপীড়নকে শ্লীলতাহানির মতন পিতৃতান্ত্রিক ধারণা দিয়ে ব্যাখ্যা করার এই সামাজিক প্রবণতারও অবসান ঘটুক। শুভ নববর্ষ। – সায়দিয়া গুলরুখ ]

প্রকাশিত সংবাদ বিশ্লেষণ, ২৯ মে ২০১২
বাংলাদেশ পুলিশবাহিনীর ‘শ্লীলতা(সম্মান)হানি’ ঘটেছে!!

গত ২৯ শে মে দুপুরবেলা ঢাকার আদালত চত্বরে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর কয়েকজন সদস্য একজন নারীকে যৌন নিপীড়নের চেষ্টা করেন। একই দিন বরিশাল জেলার হিজলা উপজেলাতে আরেকজন নারীকে পুলিশ যৌন নিপীড়ন করেন। কতিপয় পুলিশের এরূপ অনৈতিক, আগ্রাসী ও অশোভন আচরণের জন্য বাংলাদেশ পুলিশবাহিনীর ‘শ্লীলতাহানি’ ঘটেছে।

না, বেশিরভাগ পত্র-পত্রিকা, টেলিভিশন কিংবা ব্লগে বিষয়টি এভাবে প্রকাশিত হয়নি। যৌন নিপীড়নের ঘটনাকে নারীর ‘শ্লীলতাহানি’ হিসেবে উপস্থাপনের প্রতিবাদস্বরূপ, এখানে আমি একটি কল্পিত সংবাদ পরিবেশন করেছি। যদি বাংলা অভিধানের অর্থবিধি মেনে চলি, যদি বাংলাদেশ পুলিশবাহিনীর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে বিবেচনা করি, সেই সঙ্গে বাস্তবে যা ঘটেছিল যদি তার দিকে নজর দেই তাহলে খবরটা কিন্তু এভাবেই প্রকাশিত হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে তা ঘটেনি।
শ্লীলতাহানির মানে কী? বঙ্গীয় শব্দকোষ বা চলন্তিকা বাংলা অভিধানে ‘শ্লীলতাহানি’ শব্দটি নেই, আছে শ্লীল। বঙ্গীয় শব্দকোষে শ্লীল মানে শোভান্বিত, শোভন, অজুগুপ্সিত, অনিন্দিত; আর চলন্তিকায় শ্লীল মানে শিষ্ট বা ভদ্র।
বাংলাদেশ পুলিশবাহিনীর লক্ষ্য-উদ্দেশ্যই বা কী? তাদের প্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট মতে, ‘দেশের সব নাগরিককে সেবা প্রদান এবং বাংলাদেশে বসবাস ও কাজ করার আরও নিরাপদ পরিবেশ হিসেবে গড়ে তোলা (http://www.police.gov.bd/)।”

২৯শে মে আদালত চত্বরে আসলে কী ঘটেছিল? বাবা-মার সাথে স্বামীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের মামলা করার জন্য আদালতে এসেছিলেন ঘটনার শিকার নারী। বেলা ১২টার দিকে আদালত চত্বর থেকে বেরুবার পথে পুলিশ তাদের পথ রোধ করে, মোটরসাইকেলের চাবি নিয়ে নেয়। এ ঘটনার প্রতিবাদ করলে পুলিশ তার বাবাকে মারধর করা শুরু করে। মারধরের এক পর্যায়ে বাবার গলার সোনার চেইন (মূল্য আনুমানিক ৫৫ হাজার টাকা) ছিঁড়ে নেয়। মারতে মারতে আদালত সংলগ্ন পুলিশ ক্লাবে নিয়ে যায়। সেখানে তিনজনকে আলাদা আলাদা কক্ষে রাখা হয়। একটি কক্ষে তার বাবার উপর অত্যাচার করা হয়, খামচি দিয়ে চোখ উপড়ে ফেলার ভয় দেখানো হয়। অন্য কক্ষে, আক্রমণের শিকার নারী বলেন, “দু’জন পুলিশ সদস্য আমাকে জড়িয়ে ধরেন। এদের একজন জামান (পোশাকের নাম ফলক অনুযায়ী) আমার সঙ্গে চরম অশালীন আচরণ করেন। আমার গালে-গলায় চুমু দেন। মোটা কালোমতো এক পুলিশ সদস্য গলা থেকে চেইন খুলে নেন। আমি প্রতিবাদ করলে গালে চড় মারে। এতে আমার কানের দুল চামড়া কেটে ভেতরে ঢুকে যায়। তখন আমি চিৎকার করে মাকে ডাকতে থাকি। আমার চিৎকার শুনে মাও চিৎকার করতে থাকেন। একপর্যায়ে পুলিশেরই কয়েকজন কর্মকর্তা এসে আমাদের উদ্ধার করেন (প্রথম আলো, ২৯ মে, ২০১২)।”
ঘটনার এখানেই কিন্তু শেষ হয়নি।

দুপুরে পুলিশের খপ্পর থেকে ছাড়া পেয়ে বাবার মোটরসাইকেলের খোঁজে মা-মেয়ে আদালত চত্বরে ফিরে আসেন, তখন তারা সাংবাদিক ও আইনজীবীদের সাহায্য চান, ঘটনার বিচার দাবি করেন। এ সময় সহমর্মী সাংবাদিক এবং আইনজীবীদেরসহ মা-মেয়ের উপর দ্বিতীয় দফা নির্যাতন করা হয়। তাদেরকে আবারও থানায় নিয়ে আসা হয়। রাত দশটায় আইন সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক, সুলতানা কামাল নিজে থানায় গিয়ে পুরো পরিবারকে পুলিশি আটক থেকে উদ্ধার করেন।

ঘটনার শেষ এখানেও নয়।

পুলিশি আটক থেকে ছাড়া পাওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই তারা এই নির্যাতনের বিচার দাবি করেন। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে মামলা নিতে রাজি হয় না। বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিকের আইনানুযায়ী যে কোনও শাস্তিযোগ্য অপরাধ/অভিযোগের ক্ষেত্রে এজহার (ফার্স্ট ইনফরমেশন রিপোর্ট) দাখিল করার অধিকার আছে। তাই নয় কি?

অনেক চেষ্টার পর, যৌন নিপীড়নের শিকার নারীর মা বুধবার (৩০ মে, ২০১২) রাত দুটার পর চার পুলিশ এবং পুলিশের এক সোর্সের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন।

এই আলোচনার সূত্র ধরে কল্পিত সংবাদের উপসংহারটি পুনর্লিখন করছি, “কতিপয় পুলিশের এরূপ অনৈতিক, আগ্রাসী ও অশোভন আচরণের জন্য বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর সম্মানহানি ঘটেছে।”

বাংলাদেশ পুলিশবাহিনীর সম্মানহানি কি হয়নি? জনগণের কাছে পুলিশবাহিনীর গ্রহণযোগ্যতা কি প্রশ্নবিদ্ধ হয়নি? হয়েছে। ২৯শে মে কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বাংলাদেশ পুলিশবাহিনীর নারীর প্রতি সহিংসতার দীর্ঘ ইতিহাস আছে। ১৯৫০ সালে ইলা মিত্র নাচোলের পুলিশ কর্তৃক ধর্ষিত হন। তারপরে, ইয়াসমিন বা সীমা। আরও অনেক ঘটনা সংবাদপত্রের মনোযোগের আড়ালে ঘটছে। দুঃখজনক হলেও সত্যি, আদালত চত্বরের ঘটনা এর শেষ নয়।

পুলিশবাহিনীর সদস্যদের নারীর প্রতি সহিংসতামূলক দৃষ্টিভঙ্গীর বহিঃপ্রকাশ ধর্ষণ বা যৌন নিপীড়নের মতন চূড়ান্ত আক্রমণের বাইরেও সারাক্ষণই ঘটতে থাকে। রাস্তাঘাটে মেয়েদের হয়রানিমূলক মন্তব্য করার ঘটনা বিরল নয়। আমি নিজেই একাধিকবার পুলিশের এ ধরনের মৌখিক হয়রানির শিকার হয়েছি। বাংলাদেশ পুলিশবাহিনীর দৈনন্দিন পরিচালনায় পুরুষালী আচরণকে প্রশ্রয় দেয়, উৎসাহিত করে। এই প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোকে শ্লীলতাহানির মতন পুরুষতান্ত্রিক ধারণা দিয়ে চ্যালেঞ্জ করা যায় কি?

আমি বিশ্লেষণের তীরটা উল্টো দিকে ঘোরাতে চাই, নিপীড়নের শিকার নারীর শ্লীলতা থেকে সরিয়ে বাংলাদেশ পুলিশবাহিনীর দিকে তাক করতে চাই, তাহলে যৌন নিপীড়নের মতন অপরাধ নিয়ে বিরাজমান ভাবনা-চিন্তার মজ্জাগত সংকটটি ধরা পড়ে।

৩রা জুন, ২০১২ সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি আদালত চত্বওে সংঘটিত ঘটনার প্রতিবাদে প্রেসক্লাবের সামনে একটি মানববন্ধনের আয়োজন করে। মানববন্ধন পরিচালনা করেন মহিলা পরিষদের সভাপ্রধান আয়েশা খানম  এবং শ্রমিক জোটের শিরিন আখতার, এ্যাকশন এইডের মাইদা চৌধুরী, আইন সালিশ কেন্দ্রের জাহান  পারভীনসহ আরও  অনেকে বক্তৃতা রাখেন। আলোকচিত্র@ সবুজ শহিদুল

৩রা জুন, ২০১২ সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি আদালত চত্বওে সংঘটিত ঘটনার প্রতিবাদে প্রেসক্লাবের সামনে একটি মানববন্ধনের আয়োজন করে। মানববন্ধন পরিচালনা করেন মহিলা পরিষদের সভাপ্রধান আয়েশা খানম
এবং শ্রমিক জোটের শিরিন আখতার, এ্যাকশন এইডের মাইদা চৌধুরী, আইন সালিশ কেন্দ্রের জাহান
পারভীনসহ আরও অনেকে বক্তৃতা রাখেন। আলোকচিত্র@ সবুজ শহিদুল

লক্ষ করুন, আমি কেবল একটি শব্দ প্রতিস্থাপন করে আরেকটি শব্দ ব্যবহারের কথা বলছি না। আমি যৌন নিপীড়নের মতন ঘটনার ক্ষেত্রে সাংবাদিক, ব্লগার, নারী সংগঠকদের মধ্যকার বিদ্যমান মতাদর্শিক সংকটের কথা বলছি। বাংলাদেশের আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধের তালিকায় আদালত চত্বরে সংঘটিত ঘটনাটি ধর্ষণের চেষ্টা (attempt to rape) হিসিবে চিহ্নিত, তা সত্ত্বেও নারীর শ্লীলতার বিষয়টিই আলোচনার মূলকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এই সংবাদভাষ্য অনুযায়ী, পুরুষ অপরাধ করেছে, কিন্তু যে অপরাধের শিকার তার শ্লীলতাহানিও ঘটেছে। সংবাদমাধ্যম, সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি যৌন নিপীড়কের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিলেও, নারীর উপর শ্লীল-অশ্লীলতার যে মতাদর্শিক শাসন জারি আছে তা রুখে দাঁড়ান না। এই সংকটের উদাহরণ হিসেবে প্রকাশিত সংবাদের কিছু নমুনা তুলে ধরছি—

একটি ব্লগে চ্যানেল আই-য়ে প্রদর্শিত ইউটিউবের ক্লিপটি সম্পাদকীয় নোটসহ সরাসরি তুলে দিয়েছে। তাদের নোটে বলা হয়, “এবার পুলিশ প্রকাশ্য দিবালোকে ঢাকার নিম্নোক্ত আদালত চত্বরের পাশে পুলিশ ক্লাবের ভেতরে নিয়ে এক তরুণীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা করল (alalodula.org, ২৯ মে, ২০১২)।”

পরের দিন বিস্তারিত জানার জন্য আরেকটি বাংলা দৈনিক খুলে দেখি, পত্রিকার লীড নিউজ “আদালত পাড়ায় পুলিশি নিষ্ঠুরতা।” খবরে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দেয়া হয়েছে। একটা ছবিও ছাপা হয়েছে। ছবিটিতে আক্রান্ত-প্রতিবাদী নারীর মুখচ্ছবি অস্পষ্ট করা হয়েছে। ছবির নিচে ঘটনার ধারাবাহিক বিবরণ, “দুপুর ১২টা, বাবা-মাকে আদালত সংলগ্ন পুলিশ ক্লাবে নিয়ে নির্যাতন। মেয়ের শ্লীলতাহানি; দুপুর ৩:৩০, থানা থেকে বের হয়ে সাংবাদিক ও আইনজীবীদের কাছে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে মা ও মেয়ের সাহায্য প্রার্থনা… (প্রথম আলো, ৩০শে মে, ২০১২)।” একই পত্রিকায় আরও একটি ছোট নিউজ ছাপা হয়, “পুলিশের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি চেষ্টার অভিযোগ (প্রথম আলো, ৩০শে মে, ২০১২)।” ২৯শে মে, ২০১২ রাতে টিভি চ্যানেলগুলোতে নিয়মিত প্রোগ্রামের পাশাপাশি স্ক্রিনে ব্রেকিং নিউজ আকারে যে খবরটি যাচ্ছিল, তা অনেকটা এরকম, “ঢাকার আদালত পাড়ায় বিচারপ্রার্থী নারীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা।” দুইদিন পরে প্রকাশিত একটি সংবাদ শিরোনামে দেখা যায়, “এক পুলিশ সাময়িক বরখাস্ত: মেয়ের শ্লীলতাহানি, মা-বাবাকে নির্যাতন (প্রথম আলো, ১ জুন, ২০১২)।” আরও দুইদিন পরে, “শ্লীলতাহানি: এসি-ওসিসহ তিনজনকে প্রত্যাহার: সাময়িক বরখাস্ত আরও তিন (সমকাল, ৩ জুন, ২০১২)।”

তারপর দিন, সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি একটি মানববন্ধন আয়োজন করে। তাদের ব্যানারে বক্তব্য ছিল, “রাজধানীর আদালত চত্বরে বিচারপ্রার্থী তরুণীকে পুলিশ সদস্য কর্তৃক শ্লীলতাহানিসহ, তরুণী, তার পিতা-মাতা, সাংবাদিক এবং আইনজীবীদের প্রকাশ্যে নির্যাতন ও হয়রানির ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন।” এই মানববন্ধনের খবরটি প্রকাশিত হয় নিম্নোক্ত শিরোনামে, “আদালত চত্বরে তরুণীর শ্লীলতাহানির বিচার দাবী (সমকাল, ৪ জুন, ২০১২)।”

এখানে উল্লেখ্য যে, ব্লগ, দৈনিক পত্রিকা ও অন্যান্য সংবাদমাধ্যমে আদালত চত্বরের খবর প্রকাশের ক্ষেত্রে সুস্পষ্টভাবে যৌন নিপীড়কের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। ঘটনার মুহূর্তে মেয়েটির পাশে দাঁড়িয়েছেন। কেবল সাংবাদিক নন, আইনজীবী, নারী আন্দোলনের সংগঠক, মানবাধিকার কর্মী যৌন নিপীড়নের শিকার নারীটির পাশে দাঁড়িয়েছে। তাঁদের এ ভূমিকা আগামী সামাজিক প্রতিরোধ আন্দোলনের পথ প্রশস্ত করেছে।

আমার প্রশ্নটি অন্যখানে।

আমাদের দেশে সামাজিক মান-সম্মানের লিঙ্গায়িত বাস্তবতায় স্বামী ছাড়া অন্য কোনও পুরুষ নারীর গায়ে হাত দিলে নারীর সম্মানহানি হয়, নারীর শ্লীলতাহানি ঘটে—উপরেল্লিখিত সংবাদ ও প্রতিবাদী ব্যানারে এই পুরুষতান্ত্রিক ধারণাটিকে চ্যালেঞ্জ করা হয় না। পুরুষ জোরপূর্বক নারীর শরীরে হাত দিয়েছে তাই যৌন নিপীড়ন ঘটেছে, এই পুরুষটি যেহেতু তার স্বামী নন, তাই নিরাপরাধ নারীর শ্লীলতাহানিও ঘটেছে বলে ধরে নেন, বা বিষয়টি নিয়ে সংকটে ভোগেন। এমনকি বিবেকবান সাংবাদিক, সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির সংগঠকবৃন্দও এই পিতৃতান্ত্রিক সংকট মোকাবিলায় ব্যর্থ হন।

শাসকের ভাষা/ধারণা দিয়ে শাসন যন্ত্র ভাঙ্গা যায় কি?

লেখাটি প্রথম অনলাইন ম্যাগাজিনে মেঘবার্তাতে প্রকাশিত হয়, জুন ২০১২ 

Advertisements

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s