Home
সেই দারুণ দিনের অপেক্ষায়

11709516_10206702807626785_368018449239207110_n

শবনম নাদিয়া, অতিথি ব্লগার 

সাধারনত ফেসবুক মীম ধরে প্রোফাইল ফটো আমি দেই না। যারা দেন তাদেরকে নিয়ে বক্তব্য নাই ; আমি দেই না, এই আর কি। আজকে বদলালাম আমার ফেসবুক-বান্ধবদের (এবং তস্য ফেসবুক-বান্ধবদের) বিভিন্ন মন্তব্য পড়ে ।

আমার সেন্টিমেন্ট ব্যাপারটা একটু কম; বাংলাদেশীদের অধিকাংশই ধর্মীয় কারণে সমকাম-বিরোধী, এটা আমার অজানা নয়। তার পরেও গত এক দেড় দশক ধরে একটু একটু করে সমকামীদের অধিকার আন্দোলন জোর-কন্ঠ হচ্ছে, তাতে আমি আশা পাই। এই জোরকন্ঠী হওয়ার ঘটনা এক দিনে ঘটেনি, একভাবে ঘটেনি। সমকামী মানুষ জনসমক্ষে শিরদাঁড়া সোজা করে দাড়িয়েছে, সংগঠিত হয়েছে, লেখালেখি করেছে , –নানা ভাবে আমাদের সকলকে ওয়াকিফহাল করেছে যে ধর্মীয় এবং সামাজিক অনুশাসনগুলো অমানবিক, এবং সমাজের এক অংশকে ‘অস্বাভাবিক’ ঠাউর করে, তাদের বিরুদ্ধে বৈষম্য বাঁচিয়ে রেখে নিজেদেরকে স্বচ্ছ, প্রকৃত মানুষ হিসেবে দাবি করা যায় না। এ আন্দোলনে সমকামী নন, এমন অনেকেই তাদের পাশাপাশি থেকেছেন, থাকছেন। (এ প্রসঙ্গে আমার খুন হওয়া বন্ধু অভিজিত রায়ের নাম মনে না করে পারি না; তার এ প্রসঙ্গে নানা লেখা লেখি রয়েছে, এবং দারুন গুরুত্বপূর্ন, বাংলা ভাষায় রচিত তার বই “সমকামিতা: একটি বৈজ্ঞানিক এবং সমাজ-মনস্তাত্ত্বিক অনুসন্ধান’”-র উল্লেখ করতেই হয়। )

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট একটা বিশাল কাজ করেছে গতকাল, এবং যারা যুক্তরাষ্ট্রের LGBTQ আন্দোলন সামান্য হলেও খেয়াল করেছেন গত কয়েক দশক, তারা জানেন এ কত কষ্টে অর্জিত একটি বিজয়। এমন নয় যে যুক্তরাষ্ট্রের সকল মানুষ সমকামীদের সমঅধিকারে বিশ্বাসী। এমন নয় যে সমকামীদের বিরুদ্ধে বৈষম্য এ দেশে এখনো নেই, বা সেই বৈষম্য শুধুই সামাজিক। এমন নয় যে ধর্মীয় অনুশাসন ব্যবহার করে অন্যের বিরুদ্ধে বৈষম্য করতে প্রস্তত মানুষ এখানে নেই। এ বিষয়ে কাঁড়ি কাঁড়ি লেখা আছে; গুগল সক্কলেরই বন্ধু, যদি একটু বুদ্ধি ও বিবেচনার সাথে তাকে utilize করা যায়।

আমার দেশী বন্ধুদের মধ্যে সমকামী আছেন কয়েকজনই, তাদের কেউ কেউ তাদের এই পরিচয় খোলাখুলি দেন, কেউ এখনো closeted. আমি একাধিক মানুষকে চিনি যারা সমকামী হওয়ার কারণে পারিবারিক চাপের মুখে নিজেদের দারুন কষ্ট দিয়েছে; তাদের মধ্যে সকলেই যে বাংলাদেশী, বা সকলেই যে দক্ষিন এশীয়, বা সকলেই যে মুসলমান, তা-ও নয়।

সমকামিতা ‘খারাপ’, ‘পাপ’, এধরনের মন্তব্য, এবং কেউ যদি জনসমক্ষে সমকামী হিসেবে বা সমকামের সপক্ষ বা ally হিসেবে আতত্ম্প্রকাশ করে তো কদর্য গালিগালাজ দেখা যাবে, এটা আমি ধরেই নিয়েছিলাম। বাংলাদেশী, অবাংলাদেশী, অনেকেরই দারুন রকম হোমোফোবিক মন্তব্য এবং ‘যুক্তি’ পড়লাম, তার মধ্যে নতুন বা যা ধারণা করেছিলাম তার বাইরে কিছুই নেই। এসব যুক্তি খন্ডন করা কোন ব্যাপার নয়; কিন্তু চোখ-খোলা-কুম্ভকর্ণদের ঘুম ভাঙানো এক ব্যাপার বটে।

কিন্তু সেটাও আমাকে আশাহত করে না। আশাহত করলো এমন অনেকের মন্তব্য যারা নিজেদের progressive হিসেবে ভাবেন এবং উপস্থাপন করেন, তাদের হোমোফোবিয়া। কারো কারোটা রাখঢাকহীন, কারো কারোটা একটু লুকোনো ছাপানো। কিন্তু যারা নারী অধিকার নিয়ে সোচ্চার, যারা শ্রমিকের অধিকার নিয়ে কলম চালান, তারা কিভাবে সমাজের এই অংশের বিরুদ্ধে জবান খোলেন, বা তাদের সম্পর্কে নীচ মন্তব্য করেন, আমি এখনো ঠিক বুঝি না। আজীবন মজ্জাগত সামাজিক অনুশাসন ও ভয়ভীতি থেকে বের হওয়া খুব কঠিন ব্যাপার আমি জানি; তারপরেও এসব মন্তব্য পড়ে খারাপ লাগে।

আমায় যারা চেনেন তারা জানেন আমি প্রবলভাবে সমকামীদের সম-অধিকারে বিশ্বাসী। আমায় যারা চেনেন তারা জানেন আমি প্রবলভাবে আশাবাদী। আজকে, গতকালকে বিভিন্ন কুৎসিৎ মন্তব্য পড়ে যখন আশাহত হচ্ছি, যখন বারে বারে চেনা মানুষদের যন্ত্রণার কথা মনে ভাসছে, তখন নিজেকে মনে করিয়ে দিচ্ছি যে আশা হারানোর কিচ্ছু নেই। একটা আন্দোলন কখন কিভাবে দানা বাঁধে, তা নির্ভর করে অনেক আর্থসামাজিক বিষয়ের ওপর। তারপর আসে কোন এক দারুন দিন; বাংলাদেশে সেই দারুণ দিনের অপেক্ষায় আমরা থাকব।

সংহতি।

————-

Usually I don’t change my profile pic for whatever FB meme is making the rounds. I have no issues with those who do; I just don’t do it. Today I changed mine after seeing comments from FB friends (and their friends).

I’m not particularly sentimental; I know that a majority of Bangladeshis are anti-gay because of religious reasons. Still, over the past decade and longer, the movement for gay rights in Bangladesh has gradually been gaining voice; this gives me hope. This gain was not accrued in a single day, or in a single way. LGBTQ people have come out to stand up in public, they have organized, they have written about their issues–in myriad ways they have taught us that these religious and social edicts are inhumane, and that we cannot call ourselves transparent, good human beings while continuing to define a segment of our society as ‘unnatural’ and keeping discrimination against them alive. In this movement many people who are not LGBTQ have stood beside them, and continue to do so. (In this regard, I can’t not think of my murdered friend Avijit Roy; he has several essays on this subject, and most importantly, wrote a book in Bangla titled, “Homosexuality: A Scientific and Socio-Psychological Investigation.)

The Supreme Court of the USA took a tremendous step yesterday; those who have followed the American LGBTQ movement even slightly over the past decades know quite well that this is a very hard-earned victory. It isn’t as if all Americans believe in equal rights for gay people. It isn’t as if there no longer exists discrimination against gay people in this country, or that those discriminations are social only. It isn’t as if people willing to use religion to discriminate against others don’t exist here. There are oodles of essays and writings on this; Google is everyone’s friend, if only it can be utilized judiciously.

Among my desi friends there are several who identify as gay; some of them are open about their sexual identity, some are still closeted. I know several people who have hurt themselves severely because of the pressure they’ve faced from family and friends because they are gay. Not all of them are Bangladeshi, or South Asian, or Muslim.

I had assumed that there would be comments along the lines of Homosexuality is ‘bad’, ‘sinful’, etc. and that anyone who identified openly as gay or as an LGBTQ ally would face some ugliness. I’ve seen many direly homophobic comments and ‘logic’ from eople both Bangladeshi and non-Bangladeshi. None of it was particularly new or diverged from what I had expected. It’s not at all difficult to rip apart these ‘logics’, but it is difficult indeed to try to awaken those who sleep with their eyes open.

But even that didn’t disappoint me. What did disappoint me were homophobic comments from people who consider themselves and represent themselves as progressives. Some of these comments were without prevarication; some were a little more concealed. But those who raise their voices for women’s rights, those who wield their pens for workers’ rights, I still don’t quite understand how these same people can speak out against this segment (LGBTQ) of our people, or how they make derogatory statements about them. I know that it’s very difficult to extricate one’s self from the social edicts and fears that we learn in our bones from birth onwards; still, reading these comments is painful.

Those who know me, know that I believe deeply in equal rights for LGBTQ people. Those who know me, know that I believe deeply in hope. Today, and yesterday, when I felt like I was losing hope after reading comment after ugly comment, when I kept thinking of the painful experiences of folks I know, I am reminding myslf that there is no reason to lose hope. When and how a movement takes shape and moves toward success is dependent on many social and economic forces. And then one day comes that golden day; in Bangladesh we will wait for our golden day.

In solidarity.

Advertisements

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s